
আলমগীর পাঠান, নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার সল্লাবাদ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী নিলক্ষিয়া পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি বিভক্ত না করে পূর্ন:বহাল রাখার দাবিতে (২৭ সেপ্টেম্বর) রবিবার সকাল ১১ টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় সর্বস্তরের এলাকাবাসী ও ভোটাররা।
জানা গেছে, নিলক্ষিয়া পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৩০০ জন। স্বাধীনতার পর থেকেই এই অঞ্চলের ভোটাররা অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই উক্ত কেন্দ্র থেকে ৯০০ জন ভোটারের নাম কেটে নিয়ে সল্লাবাদ পশ্চিম পাড়া গ্রামে সল্লাবাদ আদর্শ ইসলামীয়া এবতেদায়ী মাদ্রাসায় একটি সম্পূর্ণ নতুন ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, নতুন যে ভোট কেন্দ্রটি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সাধারণ ভোটারদের বাড়ি থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় এবং দূরত্বের কারণে বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ, নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য সেখানে গিয়ে ভোট দেওয়া চরম কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। এতে অনেক ভোটার ভোটদানে অনীহা প্রকাশ করতে পারেন, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার শামিল।
মানববন্ধনে ভার্চুয়াল বক্তব্য রাখেন ইতালিস্থ নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমান উল্লাহ আমান।বেলাবো উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ কামরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদল সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান আজিম’সহ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বেলাবো উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, নিলক্ষিয়া পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রটি স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে আসছে, তা হঠাৎ ভেঙে দূরবর্তী স্থানে নিয়ে যাওয়া আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। এই হঠকারী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী অবিলম্বে নবগঠিত কেন্দ্রটি বাতিল করে নিলক্ষিয়া পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেই পূর্বের মতো সমস্ত ভোটারদের ভোটদানের ব্যবস্থা বহাল রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে গণশুনানির অনুষ্ঠিত হয় গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কাররুল হাসান।
দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয় এলাকাবাসী ।