1. admin@narsingdirkanthosor.com : admin :
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শিবপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ সামাজিক ও মানবিক সংগঠন “রায়পুরার কথা”র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত শিবপুরে দুই পায়ের রগ কর্তন করা শিক্ষকের মৃত্যু; জড়িত ২ জন গ্রেপ্তার পলাশে অবৈধ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট: ৫ ইটভাটাকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা জরিমানা মনোহরদীতে ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ বালু ও মাটি কাটার দায়ে ভেক্যু ও ২ ট্রলি জব্দ মোল্লা সালেহ’র প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হুব্বাঞ্জলি’র মোড়ক উন্মোচন ঢাবি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অব পলাশ (ডুসাপ)-এর নতুন কমিটি ঘোষণা মনোহরদীতে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তোলে বিক্রি, ৪ ট্রলি জব্দ রায়পুরায় মেঘনায় ডাকাতদলের গুলিতে এক জেলের মৃত্যু পলাশে হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্য মন্ত্রী, ১৬ ডাক্তারের মধ্যে অনুপস্থিত ৮

১৭ বছরের পালানো জীবন, চোখের জলের রাজনীতি, রনির লড়াই থামেনি

নরসিংদী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫১৭ বার

নরসিংদী প্রতিনিধি: একটি নাম, একটি মুখ, একটি জীবন, আব্দুর রউফ ফকির রনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নরসিংদী জেলার গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা রনির রাজনীতি যেন এক দীর্ঘ, কাঁটাযুক্ত পথচলা। যে পথে পদে পদে রক্ত, চোখের জল, আর হৃদয়বিদারক ত্যাগ লুকিয়ে আছে। ২০০১ সালে ছাত্রদলের ব্যানারে রাজনীতিতে পা রাখেন রনি। তখনকার সেই তরুণটি আজও বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে দেশের জন্য রাজপথে। তবে এই যাত্রা সহজ ছিল না।

রনি তিনি বলেন,“আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম কিছু পেতে নয়—সবকিছু হারিয়ে দিতে। দেশের জন্য, দলের জন্য, মানুষের জন্য, সেই শপথ নিয়েই শুরু করেছিলাম। আর সেই শপথই আমাকে ১৭ বছর ফেরারীর জীবন দিয়েছে।” ৬০টির বেশি মিথ্যা মামলা, বারবার গ্রেফতার, নিঃশ্বাস নিতে না পারার এক বাস্তবতা।

২০০৯ সালের পর থেকে একটানা ১৭ বছর রনি ছিলেন পুলিশের চোখে ‘পলাতক’। কোনো খুনি, চোর বা ডাকাত নন তিনি—তবু তার নামে ৬০টিরও বেশি মিথ্যা মামলা। দিন নেই, রাত নেই—যেকোনো সময় পুলিশি অভিযান, গ্রেফতার আতঙ্ক, কিংবা বাড়ির দরজায় লাথি।

রনি বলেন,“আমার পাঁচ বছরের ভাগিনা থেকে শুরু করে ৮০ বছরের বাবা—কেউ রেহাই পায়নি। শুধু বিএনপি করি বলেই আমার মা-বাবাকে থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। একটি রাত—থানার চত্বরে মা-বাবা বসে থাকতেন। আমি ছিলাম দূরে কোথাও, চোখে জল, বুক ফেটে কান্না—কিন্তু কিছু করতে পারতাম না।”

ভাঙা ঘর, ছিন্নভিন্ন জীবন—তবু লড়াই চলছে

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি, এক ভয়াবহ দিন।
রনির বাড়িতে পুলিশ ও সরকার-সমর্থিত সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। ভেঙে ফেলা হয় ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান—এমনকি বাথরুমের কোমোড পর্যন্ত উপড়ে ফেলা হয়। “আমার চোখের সামনে আমার স্বপ্ন ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ওরা। ব্যবসা, বসতবাড়ি, সব শেষ। পরিবার নিরাপদে ঘুমাতে পারত না। এমনও দিন গেছে, সারারাত পাহারা দিয়ে কাটিয়েছি। আমি শুধু একটি প্রশ্ন করতাম নিজেকে—এই কষ্ট কি কখনো শেষ হবে?”

অনেক সময়, নিজে পলাতক থেকেও কখনো নেতাকর্মীদের একা ফেলেননি রনি। জেল, হামলা, মামলা—তবুও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থেকেছেন দলের জন্য।রনি বলেন“আমার অনেক সহকর্মী জেল খেটেছে। কেউ মার খেয়েছে। কেউ বাড়ি ছাড়া। আমি নিজে থেকেছি প্রতিটি কর্মসূচিতে, কোনোদিন মনোবল হারাতে দিইনি কাউকে। সব সময় চেয়েছি খাইরুল কবির খোকন ভাইয়ের মতো নেতার পাশে থাকতে। তিনি আমার আদর্শ। আমার নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বেই আমি শিখেছি দেশপ্রেম কাকে বলে।”

দলের প্রতি ভালোবাসা আর মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে আজও রাজনীতিতে সক্রিয় রনি। তার লক্ষ্য স্পষ্ট—দলের পুনর্গঠন এবং দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।

নিউজটির শেষ অংশে, রনির মুখে উঠে আসে কিছু কথা, যা পড়লে চোখ ভিজে আসে—আমি বিএনপিকে ভালোবাসি আমি খাইরুল কোবির খোকন ভাইকে ভালবাসি আমি তারেক জিয়ার আদর্শের সৈনিক। আমি জানি, আমার ত্যাগ বৃথা যাবে না।
একদিন এই দেশ বদলাবে। তখন কেউ বলবে—একজন রনি ছিল, যে জীবনের সবকিছু দিয়ে, কাঁদতে কাঁদতে, লড়তে লড়তে—মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল। বিএনপিকে ভালোবেসে।

এই মানুষটিই আব্দুর রউফ ফকির রনি।
তাঁর গল্প কেবল একজন রাজনীতিকের নয়, এক যোদ্ধার, এক বিশ্বাসীর—যিনি হার মানেননি কখনো।

আরো খবর..
© নরসিংদীর কন্ঠস্বর
Developed By Bongshai IT