
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রায় ছয় বছর ধরে পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো ডাক্তার নেই। ডাক্তারসহ ৪ টি পদের বিপরীতে মাত্র একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া পানির ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র শৌচাগারটিও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা কর্মকর্তা (মেডিকেল অফিসার), উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়কসহ চারটি পদ রয়েছে। তবে শুধু একজন ফার্মাসিস্ট দিয়েই চলছে হাসপাতালটি। ফলে চরসিন্দুর ইউনিয়নের ৪৮ হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবা নির্ভর করছে একজন ফার্মাসিস্টের ওপর।
তাহমিনা নামের ওই ফার্মাসিস্ট কয়েক বছর ধরে ৪ জনের দায়িত্ব একাই পালন করছেন। হাসপাতাল বন্ধ থাকবে ভেবে যোগদানের পর একদিনও ছুটি নিতে পারেননি তিনি। চিকিৎসক না থাকায় ওষুধ পেলেও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।
জানা গেছে, চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সর্বশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার রাবেহা মাহমুদ ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রেষণে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালে উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসক টাঙ্গাইল বদলি হয়ে চলে গেছেন। অনেক বছর ধরে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়কের পদ ও শূন্য রয়েছে।
ফার্মাসিস্ট তাহমিনা জানান, বিধিমতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ফার্মাসিস্ট রোগীকে ওষুধ সরবরাহ করবেন। রোগীকে ওষুধ খাওয়ার নিয়ম বলে দেবেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বরাদ্দকৃত ওষুধ তাঁর হেফাজতে সংরক্ষিত থাকবে। রোগী দেখা বা রোগীর ব্যবস্থাপত্র লেখা তাঁর এখতিয়ার বহির্ভূত। রোগীও দেখতে হচ্ছে, আলমারি খুলে ওষুধ দেওয়াসহ প্রতিদিন হাসপাতালের দুটি কক্ষ, বারান্দা ও চারপাশ ঝাঁড়ুও দিতে হচ্ছে তাঁকে। প্রতিদিন তাঁকে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী সামাল দিতে হচ্ছে।
গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পুরো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তালা মারা। সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে ১০ মিনিট পর ফার্মাসিস্ট তাহমিনা ছুটে এসে তাঁর চেম্বারে ঢোকেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাশের বাসার ওয়াসরুমে গিয়ে ছিলেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই কেন্দ্রে সেবা নিতে আসেন কয়েকজন নারী ও পুরুষ। তাদের কথা শুনেই ফার্মাসিস্ট তাহমিনা তাদের ওষুধ দিয়ে দিলেন। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কীভাবে ওষুধ দিলেন, জানতে চাইলে তাহমিনা বলেন, ‘কী করব নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তাদের ওষুধ দেই।’
সেলিনা নামে এক রোগী বলেন, ‘এখানে বহুদিন ধরে কোনো ডাক্তার নেই। এই আপাই আমাদের আসলে দু’পদের ওষুধ দিয়ে দেন।’
রোগী পিয়ারা জানান, এখানে কোনো চিকিৎসাই পাওয়া যায় না। ওই ফার্মাসিস্ট এসে কিছুক্ষণ থেকে উনিও চলে যান তালা মেরে।
পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লোকাল আদেশে ২০২০ সাল থেকে ডা. রাবেহা মাহমুদ প্রেষণে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে কাজ করছেন। তাই পরে চরসিন্দুরে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। ২০২৫ সালে উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসকও বদলি হয়ে টাঙ্গাইলে চলে যান। বিষয়টি নরসিংদী সিভিল সার্জেনকে জানানো হয়েছে। তাঁর আশা শিগগিরই বিষয়টির সমাধান করা হবে।