
নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদী সদর উপজেলার বাসাইল এলাকায় ঘরের পাশে গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক মা ও তার ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বাসাইল পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত দুজন বর্তমানে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
আহতরা হলেন— বাসাইল এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী কামরুননাহার (৩৫) এবং তার ছেলে ফরহাদ হোসেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হামলায় কামরুননাহারের মাথায় ১১টি এবং ফরহাদ হোসেনের মাথায় ৩টি সেলাই দিতে হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে বাসাইল পূর্বপাড়ার মৃত সাফি উদ্দিনের ছেলে জাকির প্রধান (৪৫), মৃত নজরুল প্রধানের ছেলে বাহার উদ্দিন প্রধান (৪০) এবং জাকির প্রধানের ছেলে মো. আবির প্রধান (১৯)-কে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জাকির প্রধান দীর্ঘদিন ধরে কামরুননাহারের বাড়ির পাশে এসে নিয়মিত গাঁজা সেবন করতেন। এতে ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে পরিবারের সদস্যরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রোববার দুপুরে জাকির প্রধান পুনরায় বাড়ির পাশে গাঁজা সেবন শুরু করলে ফরহাদ হোসেন তাকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাকির প্রধান ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফরহাদের ওপর হামলা চালান। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে কামরুননাহারের ওপরও হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়। এছাড়া লোহার রড ও বাঁশ দিয়ে মা-ছেলেকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়, এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে প্রতিবেশীরা আহত মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় কামরুননাহার বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নরসিংদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মুহিদুল ইসলাম বলেন,”ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”