1. admin@narsingdirkanthosor.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ঘোড়াশালে পরকীয়ার জেরে যুবককে হত্যা, প্রধান আসামী ফয়সাল গ্রেপ্তার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় দেশসেরা নরসিংদীর বেলাবর শান্ত শুভেচ্ছায় ভাসছেন বেলাবতে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক কমল গ্রেফতার নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা সন্ত্রাসীদের নেই: খায়রুল কবির খোকন ঘোড়াশালে পরকীয়ার জেরে প্রেমিককে হত্যা, প্রেমিকা গ্রেফতার পলাশে সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার আধুনিক নরসিংদীর রুপকার সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুল মোমেন খানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ঘোড়াশালের করতেতৈল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত বেলাব’র নবাগত ইউএনও-ওসি’র সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা শিক্ষক-কর্মচারী আত্তীকরণ কালো আইন বাতিলের দাবিতে পলাশে অবস্থান কর্মসূচি

খালেদা জিয়ার সংগ্রাম: এক নারী এক ইতিহাস এবং এক প্রতিরোধের প্রতীক

সাইফুর নিশাদ | মনোহরদী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার

সাইফুর নিশাদ সাংবাদিক ও কলামিস্ট : বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারণ হলেই সামনে ভেসে ওঠে সংগ্রামের এক দীর্ঘ পথচলা, অদম্য মনোবল ও গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের প্রতিচ্ছবি। তিনি শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন; বরং তিনি দক্ষিণ এশিয়ার নারী নেতৃত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক, দীর্ঘতম গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ধারক।

আজ যখন তিনি গুরুতর অসুস্থ, জীবন–মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন, তখন তার রাজনৈতিক জীবন, প্রভাব, অবদান ও অবরুদ্ধ মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা উঠেছে। হাসপাতালের নিস্তব্ধতা যেন জানান দিচ্ছে—একজন নেত্রী নন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বহু অধ্যায়ই আজ সংকটে।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর পুরো দেশের ওপর নেমে এসেছিল গভীর শোক, অস্থিরতা ও রাজনৈতিক শূন্যতা। সে সময় মাত্র কয়েক মাস আগেও যিনি ছিলেন সংসারের আড়ালে থাকা শান্ত-স্বভাবের এক নারী—সেই বেগম খালেদা জিয়ার কাঁধেই এসে পড়ে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব।

এই অনভিজ্ঞ, শান্ত স্বভাবের নারী অল্প সময়েই পরিণত হলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতীয় নেত্রীতে। দুইবার নয়—তিন তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি প্রমাণ করেন, নেতৃত্ব জন্মগত নয়; এটি তৈরি হয় প্রতিদিনের সংগ্রাম, সততা ও জনগণের বিশ্বাস থেকে।

ক্ষমতায় থাকা যেমন কঠিন, বিরোধী রাজনীতিতে টিকে থাকা তার থেকেও কঠিন। বেগম জিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল—রাজপথে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার ক্ষমতা।

তিনি কারাবরণ করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, দলের ভেতরের অস্থিরতাও সামলেছেন দৃঢ় হাতে। তার নেতৃত্বে রাজপথের আন্দোলনগুলোই প্রমাণ করেছে—তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি প্রতিরোধের প্রতীক।

বিগত কয়েক বছর ধরে গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছেন বেগম জিয়া। লিভারের জটিল রোগ তাকে ধীরে ধীরে নিস্তেজ করে দিচ্ছে। প্রতিদিন তাঁর চিকিৎসা নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্ন— একজন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী কি মানবিক কারণে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন না? এ প্রশ্ন রাজনৈতিক নয়—নির্বিচার মানবিকতা ও রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার প্রশ্ন।

বর্তমান সময়ে তার শারীরিক অনুপস্থিতিই প্রমাণ করে, তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। তার পাশে না থাকায় দল যেমন দুর্বল, তেমনি রাজনীতির স্বাভাবিক ভারসাম্যও নষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতির যে ত্রিভুজ—সরকার, বিরোধী দল ও জনগণ—তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কোণ শূন্য হয়ে পড়েছে। আর এ শূন্যতাই দেখাচ্ছে, একজন বেগম জিয়ার অভাব কী তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে।

– সময়ের বিরুদ্ধে – রোগের বিরুদ্ধে – রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে – রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে – এবং নীরব অবিচারের বিরুদ্ধে
একজন ব্যক্তি কখন জাতির প্রতীকে পরিণত হয়? যখন তার লড়াই জনগণের লড়াই হয়ে ওঠে। আজ বেগম জিয়ার সংগ্রাম ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে।

বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপি নয়—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অপরিহার্য অধ্যায়। আজ তিনি হাসপাতালে, হয়তো দুর্বল, হয়তো ক্লান্ত। কিন্তু তার ধারণা, তার নেতৃত্ব, তার গণতান্ত্রিক অবস্থান—এসব এখনো জীবন্ত, জাগ্রত, সক্রিয়।
আমরা প্রার্থনা করি—তিনি সুস্থ হয়ে আবারও শক্তির প্রতীক হয়ে ফিরবেন। কারণ, একটি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে কখনো হাসপাতালের বেডে শেষ হতে দেওয়া যায় না।

কলাম ‘ সাইফুর নিশাদ সাংবাদিক, মনোহরদী

আরো খবর..
© নরসিংদীর কন্ঠস্বর
Developed By Bongshai IT