
নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নরসিংদী পৌর শহর এলাকায় ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ খবিরুল ইসলাম বাবুল (ভিপি খবিরুল)। তাঁর তত্ত্বাবধান ও সার্বিক সমন্বয়ে ঈদের দিন বিকেল থেকেই পৌরসভার উদ্যোগে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে একযোগে বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়।
ঈদের দিন কোরবানি শেষে শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, বাজার, ড্রেন ও আবাসিক এলাকায় পশুর বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দেয়। গরম আবহাওয়ার কারণে বর্জ্য দ্রুত পচে গিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। অনেক এলাকায় ড্রেন ও নালার মুখ বর্জ্যে আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, যা জলাবদ্ধতা ও রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি করে।
এমন পরিস্থিতিতে ভিপি খবিরুল নিজেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠে নেমে দিন-রাত কাজের তদারকি করেন। বিশেষ টিম গঠন করে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। সড়ক, বাজার, ড্রেন ও জনসমাগমস্থল থেকে কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ করে দ্রুত নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করা হয়। এরই মধ্যে পৌর এলাকার অধিকাংশ স্থানের বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট এলাকাগুলোতেও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঈদের পরপরই এমন দ্রুত ও কার্যকর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলেন, “প্রতিবছর কোরবানির পর বর্জ্য অপসারণ নিয়ে কিছুটা ভোগান্তি থাকলেও এবার খুব দ্রুত কাজ শুরু হয়েছে। ভিপি খবিরুল নিজে মাঠে থেকে কর্মীদের সঙ্গে কাজ করায় কার্যক্রমে গতি এসেছে। এতে পরিবেশ যেমন পরিচ্ছন্ন থাকছে, তেমনি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও কমছে।”
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “কোরবানির পর সাধারণত কয়েকদিন দুর্গন্ধে মানুষকে কষ্ট করতে হয়। কিন্তু এবার খুব দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। শহরের পরিবেশও দ্রুত স্বাভাবিক হয়েছে।”
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “ঈদের আনন্দের পর শহরকে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তোলার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। নেতৃত্ব যদি এমন সক্রিয় হয়, তাহলে জনগণও সচেতন হতে উৎসাহ পায়।”
এ বিষয়ে ভিপি খবিরুল বলেন, “একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য পৌর শহর গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও আধুনিক পৌর শহর বিনির্মাণ সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো এবং একটি সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ না করলে পরিবেশ দূষণ ও বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ঈদ-পরবর্তী সময়েও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, জনসেবামূলক এ ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি পরিচ্ছন্ন শহর গঠনে সহায়তা করে না, বরং জনগণের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিপি খবিরুলের নেতৃত্বে পরিচালিত এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান ইতোমধ্যেই পৌরবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং জনবান্ধব নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।