
সাব্বির হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক :.নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে বাড়ির ছাদে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমধর্মী এক বাগান। যেখানে চাষ হচ্ছে ৪৫টি বিদেশি জাতের আঙুর ফল। প্রতিটি গাছের থোকায় থোকায় বিভিন্ন রঙের আঙুর, যা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একসময় শুধুই শখের উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও এখন তা এলাকায় নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।
ঘোড়াশালের যুবক মোহাম্মদ আকরাম হোসেন তার চাকরির পাশাপাশি নিজের বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন এই বাগান। শখের বসে শুরু করা আঙুর চাষে মাত্র এক বছরের মধ্যেই তিনি পেয়েছেন চমকপ্রদ সফলতা।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ঘোড়াশালে জিও ব্যাগে চারা রোপণ করেন আকরাম। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় এক বছরের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। এবার নিয়ে টানা ২ বছর ধরে ঘোড়াশালে তার বাড়ির ছাদে আঙুর চাষ করছেন তিনি। এখন তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙুর ফল।
আঙুর চাষী আকরাম হোসেন জানান, আমার বাগানে লোরাস, ভেলেজ,ডিক্সন,বাইকুনুর, ট্রান্সফিগারেশন, ভেলোদর, লুচিস্টিজ, একেলো, একাডেমিক, রেবেকা, এনজেলিকা, আলফা, ডাসুনিয়া,স্পাইস ও চকলেটসহ প্রায় ৪৫ টি উন্নত জাতের আঙুর রয়েছে। জাতগুলো বেশিরভাগই রাশিয়া, ইউক্রেন ও তুরস্কের। সামনে বানিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে পারবো বলে আশা রাখি।
স্থানীয় যুবক সাইফুল ইসলাম জানান, ছাদে এভাবে আঙুর চাষ আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। আঙুরগুলো খুবই সুমিষ্ট। কীটনাশক ছাড়াই আঙুর চাষে তিনি সফলতা পেয়েছেন এটা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। এটি দেখে আমরা আঙুর চাষে আগ্রহী হচ্ছি।
এলাকাবাসী জানান, অনেকেই এখন আকরামের ছাদ বাগান দেখতে আসছেন এবং তার কাছ থেকে চাষের কৌশল শিখছেন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে ছাদভিত্তিক আঙুর চাষ ভবিষ্যতে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন, আঙুর বাগান সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।