1. admin@narsingdirkanthosor.com : admin :
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন

বিনা টিকেটে ট্রেন ভ্রমন, অনুশোচনা থেকে মুক্তি পেতে ভাড়া পরিশোধ

নরসিংদী প্রতিনিধি :
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১৮৫ বার

নরসিংদী প্রতিনিধি : কলেজে পড়াকালীন সময়ে আনন্দের জন্য বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেনে চড়ে বসতেন মো. আবদুল কাইয়ুম মিয়া (৪৪)। প্রায় সময়ই বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন স্টেশনে নেমে যেতেন, ঘুরেফিরে ফিরতি ট্রেনে আবার চলে আসতেন। ওই সময় তারা কেউ ট্রেনের টিকিট কাটতেন না। এইভাবে তিনি বহুবার বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমন করেছেন। ওই সময় পকেটে টাকা না থাকায় এবং সচেতনতার অভাবে তিনি এমনটা করতেন বলে তাঁর ভাষ্য।

দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটিয়ে দেশে ফেরার পর তাঁর মধ্যে অনুশোচনা হয়। চার বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে স্টেশনে এসে ট্রেনভ্রমণ বাবদ বকেয়া এক হাজার পাঁচ টাকা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের হাতে বুঝিয়ে দেন তিনি। নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আবদুল কাইয়ুম মিয়া নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কুমরাদি এলাকার বাসিন্দা।

স্টেশন সূত্রে জানা যায়, কাইয়ুম দুপুরে স্টেশনে এসে জানায় তিনি ছাত্রাবস্থায় বহুবার ট্রেনে বিনা টিকেটে ভ্রমন করেছেন। এটি এখন তার মধ্যে পাপ বোধের জন্য দিচ্ছে। ট্রেন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এর রাজস্ব দেশের ১৮ কোটি মানুষ ভোগ করে। সে নিজের অনুশোচনার জন্য স্টেশনে টাকা জমা দিতে চায়। তবে কাইয়ুম কতবার বিনা টিকিটে ভ্রমণ করেছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না। তিনি বেশিরভাগ সময় আড়িখোলা ভ্রমন করছেন বলে জানায়।

তখন স্টেশন মাস্টার সহ বাকি কর্মকর্তারা বসে অনুমান করে এই টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করেন। ব্যবহার না করার শর্তে ১৫ টাকা মূল্যের মেইল ট্রেনের ৬৭টি আজকের দিনের টিকিট দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এর দাম আসে এক হাজার পাঁচ টাকা। এই টাকা নগদ পরিশোধ করে দায়মুক্তি নিয়েছেন তিনি। টিকিট কেটে পরিশোধ করা এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সাইদুল ইসলাম, প্রধান বুকিং সহকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ মো. মুরশিদ মোল্লাসহ প্রমুখ।

কাইয়ুম মিয়া জানায়, ২০ বছর আগে আমি নরসিংদী সরকারি কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে বহুবার বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেনে ভ্রমন করেছি। ওই সময় আমরা কেউ ট্রেনের টিকিট কাটার কথা ভাবতামই না। তবে সম্প্রতি ওই সময়কার বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের স্মৃতি আমার মনে অনুশোচনা তৈরি করছিল। দেড় বছর আগে একবার চেষ্টা করেছিলাম, সম্ভব হয়নি।

এবার জর্ডান থেকে দেশে ফিরে স্ত্রীকে বিষয়টি জানালে সে এ ব্যাপারে উৎসাহ দেন। রবিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ছেলে আবু সাইদকে নিয়ে বাড়ি থেকে নরসিংদী রেলস্টেশনে যাই। পুরো বিষয়টি জানিয়ে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সহায়তা চাইলে তারা তাঁকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করে। আমি আমার পাপবোধ থেকে মুক্তি পেয়েছি, নিজের বিবেকের তারণা দূর করতে পেরেছি। এখন মানসিক ভাবে শান্তি পাচ্ছি।

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সাইদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, তিনি নিজের পাপমুক্তি ও মানসিক শান্তির জন্য টাকাটা পরিশোধ করেছেন। ওনি টাকা পরিশোধ করলে পরে আমরা টিকিটগুলো ওনার কাছে হস্তান্তর করি। পরে তিনি টিকিটগুলো ছিঁড়ে ফেলেন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণের প্রতি সচেতনতা বাড়বে বলে তারা আশা করছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।

আরো খবর..
© নরসিংদীর কন্ঠস্বর
Developed By Bongshai IT