
নিজস্ব প্রতিবেদক : নরসিংদীতে চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থান নিয়ে আলোচনায় আসা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম আনোয়ারকে জেলা পুলিশ থেকে সরিয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) বদলি করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপনে ‘জনস্বার্থে’ এই বদলির কথা জানানো হয়।
নরসিংদীতে দায়িত্ব পালনকালে শামীম আনোয়ার চাঁদাবাজি ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আলোচনায় আসেন। তার এসব কার্যক্রমে ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেন।
২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর চাঁদাবাজিবিরোধী এক অভিযানে তিনি হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয় এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া নরসিংদীর আলোচিত কিশোরী আমেনা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ ওরফে ‘নুরা’কে ভারতে পালানোর সময় ধাওয়া করে গ্রেপ্তার করেন তিনি। একইভাবে ২০২৫ সালের মে মাসে উবারচালকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করেও প্রশংসা পান।
এর আগে র্যাবে কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নেতৃত্ব দেন শামীম আনোয়ার। কক্সবাজারে সেনা কর্মকর্তা লে. তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি গ্রেপ্তার, বান্দরবানে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) সংক্রান্ত অভিযানে অংশগ্রহণসহ নানা ঘটনায় তার ভূমিকা আলোচিত হয়।
২০২০ সালে শ্রীমঙ্গল র্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্যও পরিচিতি পান তিনি। করোনাকালে রোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার বিভিন্ন ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হয়।
নরসিংদীতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, জেলার ‘ডিকশনারি’ থেকে চাঁদাবাজি শব্দটি মুছে ফেলতে চান। দুর্নীতিবাজ ও জনহয়রানিকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও বিভিন্ন সময় জানান।
তার বদলির খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার সততা ও সাহসিকতার প্রশংসা করে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, তার অনুপস্থিতিতে জেলায় চাঁদাবাজি ও মাদক পরিস্থিতি আবারও অবনতি হতে পারে।