
নিজস্ব প্রতিবেদক : নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে কাদির (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে পলাশ থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে সাড়ে ৮ টার দিকে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। স্থানীয়ভাবে কোনো সমাধান না পেয়ে শিশুটির পরিবার শুক্রবার রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে শনিবার কাদিরকে গ্রেফতার করা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর ধর্ষকের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার সকালে বাদীর বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা বাদীনির বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং বাদীনি ও তার মাকে মারধর করে।
গ্রেফতারকৃত কাদির নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার কুমারটেক গ্রামের মৃত আব্দুল আওয়ালের ছেলে। অপরদিকে ধর্ষণের শিকার শিশু পার্শ্ববর্তী বাড়ীর এক অসহায় নারীর মেয়ে। তিনি বাবার বাড়ীতে দুই সন্তানকে নিয়ে কোনমতে দিন কাটাচ্ছেন।
বাদীনি জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে আড়াই বছর বয়সী তার শিশু কন্যা বাড়ির সামনে খেলাধুলা করতে থাকে এবং তার মা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর শিশু কন্যাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এদিক সেদিক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ির কাদিরকে তার শিশু কন্যাকে সাথে নিয়ে আসতে দেখে। শিশু মেয়েকে মজা কিনে দিতে নিয়ে গেছে বলে আব্দুল কাদির জানায। এ সময় শিশুর হাতে একটি কেক দেখতে পায় বাঁধিনি। মেয়েকে কোলে নিয়ে চলে আসতে চাইলে কিন্তু তার মেয়ে কিছুতেই কোলে উঠতে চাচ্ছিল না। এ অবস্থা কি হয়েছে বলে মেয়ের কাছে জানতে চাইলে সে তার বিশেষ অঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করে মাকে বলে ওঠে ‘মারছে’। পরে মেয়েকে নিয়ে ঘোড়াশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে শিশু মেয়েটির ইনজুরি হয়েছে বলে চিকিৎসক জানায়।
পরে বিষয়টি এলাকার কিছু মানুষ সামাজিকভাবে মীমাংসার আশ্বাস দেয় এবং শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বিষয়টির মীমাংসা করা হবে বলে জানায় তাদের। কিন্তু শুক্রবার নামাজের পর নজরুল ও সোহেল নামে দুই ব্যক্তি এসে তাদেরকে জানায় ধর্ষক কাদির এবং তার পরিবারের লোকজন সামাজিক এই বিচার মানে না। পরবর্তীতে শুক্রবার রাতে তারা থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শিশু মেয়েকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
এদিকে থানায় অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে ধর্ষক কাদিরের বড় ভাই আব্দুল আজিজ (৫০), ভাতিজা সাকিব (২০) ও আরেক ভাতিজা আলিফ (১৫) কাদিরের স্ত্রীসহ অন্যান্যরা বাদীনির বাড়ীঘরে হামলা চালায। এসময় তারা লাথি মেরে ঘরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে লুটপাট চালায় এবং বাদীনি ও তার মেয়েকে দৌড়ে ধরে বেধরক মারধর করে।
এব্যাপারে পলাশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কুতুবুল মিয়া বলেন, অভিযোগের পর এ ঘটনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিযে পলাশ থানা পুলিশ
তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনা সত্যতার প্রমান পাওয়া অভিযুক্ত আব্দুল কাদিরকে গ্রেফতার করা হয়। শিশু মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো৷ হয়েছে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।