
নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ২৬ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ জন্মভূমি নরসিংদীর রায়পুরার মুছাপুর ইউনিয়নের তালুককান্দি গ্রামে ফিরেছেন প্রবাসী ও সমাজ সেবক মিজানুর রহমান সুমন। এ উপলক্ষে এলাকাবাসী ও স্বজনরা ব্যতিক্রমী আয়োজনে তাকে বরণ করে নেন। ফুলেল শুভেচ্ছা, মিষ্টিমুখ আর আনন্দ মিছিলের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা।
মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুপুরে নিজ বাড়ি মাষ্টারবাড়ি চত্বরে পৌঁছালে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে বরণ করে নিতে ছুটে আসেন। এর আগে সকালে স্ত্রী কল্পনা বেগম ও দুই কন্যা এনজেল ও আফরিনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।
স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে তালুককান্দির বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা তার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছায়। পরে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

স্থানীয়রা জানান, মিজানুর রহমান সুমন তালুককান্দি গ্রামের মরহুম আতাউর রহমানের ছেলে। প্রবাসজীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালেও নানা মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজের গ্রামে শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘মাষ্টার বাড়ি ফাউন্ডেশন’ অসচ্ছল শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও দুঃস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
এমন আয়োজনে মুগ্ধ এলাকাবাসীও আশা করছেন, প্রবাসী সুমনের মতো ব্যক্তিরা দেশের উন্নয়নে আরো বেশি অবদান রাখবেন।
ভাই রাশেদ প্রধান বলেন, “সুমনের মতো প্রবাসীরা যখন নিজ মাটি ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে ফিরে আসেন, তখন তা আমাদের তরুণদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে ওঠে।”
সুমনের কন্যা এনজেল ও আফরিন বলেন, “আমরা বাবার শৈশবের গ্রাম নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি। এবার সেই গল্পের বাস্তব রূপ দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
স্ত্রী কল্পনা বেগম বলেন, “স্বামীর অনুপস্থিতিতে আমি একাধিকবার দেশে এলেও আমরা পুরো পরিবার একসাথে এবারই প্রথম ফিরলাম। এটা আমাদের জন্য এক স্বপ্নপূরণ।”
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করে মিজানুর রহমান সুমন বলেন, “জন্মভূমির টান কখনোই মুছে যায় না। মা-বাবার অনুপস্থিতি বেদনাদায়ক হলেও এলাকাবাসীর ভালোবাসা আমাকে পূর্ণ করেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার প্রসার, মানবসেবা ও সমাজ উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করবো। ‘মাষ্টার বাড়ি ফাউন্ডেশন’-এর পরিসর আরও বাড়ানো হবে ইনশাআল্লাহ।”