
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বমঞ্চে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করল এক অপ্রতিরোধ্য মেধাবী মুখ। পানামার রাজধানী পানামা সিটিতে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘আলোহা আন্তর্জাতিক মানসিক গণিত প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এ বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশের গর্ব রিয়াদ হোসেইন। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আসরে বিশ্বের বাঘা বাঘা প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব জিতে নিয়েছে সে।
প্রতিযোগিতার আদ্যোপান্ত:
গত ২৭ জুলাই ২০২৬ পানামা সিটির মূল সম্মেলন কেন্দ্রে এই আন্তর্জাতিক মেধা যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আসরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১ হাজারেরও অধিক শিশু ও তুখোড় প্রতিযোগী অংশ নেন।
মানসিক গণিতের বিভিন্ন জটিল ও কঠিন ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় শিশুরা চোখের পলকে নিখুঁত হিসাব-নিকাশ করে তাদের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দেয়। তীব্র মানসিক চাপ এবং সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলা এই প্রতিযোগিতায় বিচারকদের মন জয় করে এবং নিখুঁত ফলাফল উপহার দিয়ে রিয়াদ হোসেইন অর্জন করে নেন আসরের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার—গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন ট্রফি।
জাতির জন্য এক গর্বের মুহূর্ত:
কম বয়সে রিয়াদের এই অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক সাফল্য কেবল তার পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পুরো জাতির জন্যই এক পরম গৌরবের মুহূর্ত। কাগজ-কলম বা ক্যালকুলেটরের সাহায্য ছাড়াই কেবল মানসিক শক্তির জোরে জটিল সব অঙ্ক নিমিষেই সমাধান করার এই অবিশ্বাস্য প্রতিভা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিশুদের এই অভূতপূর্ব মেধা ও বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ দেশের ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল। এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিশুরা সাফল্য পেলেও, আলোহার বিশ্বমঞ্চে এই গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়নশিপ দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক নতুন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আনন্দের জোয়ার ও সংবর্ধনা :
রিয়াদের এই ঐতিহাসিক বিজয়ের খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই তার পরিবার, শুভানুধ্যায়ী এবং পুরো দেশের মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে নিয়ে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে রিয়াদ হোসেইনের মতো মেধাবী শিশুরা আগামী দিনে বিশ্বকে আরও বড় বড় অর্জন উপহার দিতে সক্ষম হবে।