1. admin@narsingdirkanthosor.com : admin :
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২০ অপরাহ্ন

ঘোড়াশালে অটো চালকের লাশ উদ্ধারে থানায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

সাব্বির হোসেন | নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১৯৭ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক : নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে আবুল কালাম (৪৫) নামে এক অটো চালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে গতকাল বেলা ৩ টায় উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার উত্তর মিয়া গ্রামের একটি ব্যাটারি চার্জের ঘর থেকে ওই চালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত আবুল কালামের ভাই সাইদুল হক বাদী হয়ে চার জনকে আসামী করে পলাশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আজ দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঘোড়াশাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো: নাইবুল ইসলাম।

এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঘোড়াশাল পৌর এলাকার উত্তর মিয়া গ্রামের মো: নাসির উদ্দীন, তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও পুত্রবধূ স্ত্রী সাথী আক্তার। তবে মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আসামী জাহাঙ্গীরকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আবুল কালামের বাড়ি ময়মনসিংহে। তার পিতার নাম মৃত জসিম উদ্দিন। আবুল কালাম নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার আঁটিয়াগাও গ্রামে ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন ও অটো রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌর এলাকার মিয়াপাড়া উত্তর পাড়া গ্রামের নাসির উদ্দীন এর ছেলে জাহাঙ্গীরের (২৫) কাছ থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে নরসিংদী সদরের শিলমান্দি এলাকায় গেলে তার অটোরিকশাটি চুরি হয়।

পরে বিষয়টি অটোরিকশার মালিক জাহাঙ্গীরকে জানান, আবুল কালাম। কিন্তু জাহাঙ্গীর সন্দেহ করেন, অটোরিকশাটি বিক্রি করে দিয়ে চুরির নাটক করছেন তিনি। এ কারণে দুপুরে তাকে উত্তর মিয়া পাড়া গ্রামের এলাকার ব্যাটারি চার্জের একটি ঘরে আটকে রাখেন। পরে তাকে মারধর করে টাকা দাবি করেন জাহাঙ্গীর।

খবর পেয়ে আবুল কালামের স্ত্রী আমেনা খাতুন রুবি ঘটনাস্থলে গেলে তাঁর সঙ্গেও টাকার জন্য দুর্ব্যবহার করে জাহাঙ্গীর। টাকা ছাড়া তাঁকে ছাড়বেন না বলে জানান তিনি। আবুল কালামের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীকে ছেড়ে দেন প্রয়োজনে কিস্তি তুলে টাকা পরিশোধ করব। এই আশ্বাসেও তাঁকে ছাড়েননি জাহাঙ্গীর।

পরে রাত ৮টার দিকে ঘরের ভিতর আবুল কালামকে রেখে দরজা বন্ধ করে চলে যান জাহাঙ্গীর। এরপর সোমবার সকাল ৯ টার দিকে জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী সাথী মিলে অটোরিকশার চালক আবুল কালামকে দেখতে যান। তারা দরজা খুলে দেখতে পান, আবুল কালাম রশিতে ঝুলছেন। পরে তার মরদেহ নিচে নামিয়ে রেখে পালিয়ে যায় জাহাঙ্গীর। ঘটনা জানাজানি হলে দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ।

পলাশ থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে রাতেই জাহাঙ্গীরসহ তার পরিবারের চার জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পরিবারের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে আর প্রধান অভিযুক্ত আসামী জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরো খবর..
© নরসিংদীর কন্ঠস্বর
Developed By Bongshai IT