1. admin@narsingdirkanthosor.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

২২ মার্চ ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত উপজেলা ঘোষণা হতে যাচ্ছে পলাশ

মোঃ আশাদউল্লাহ মনা :
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০২৩
  • ২৭৮ বার

মোঃ আশাদউল্লাহ মনা : “দেশের একটি পরিবারও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না” মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করেছে পলাশ উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা। এরই ধারাবাহিকতায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৪র্থ ধাপে পলাশ উপজেলায় ৯৫টি ও পূর্বে দেওয়াসহ মোট ১৯৩টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পাকা ঘর এবং দুই শতাংশ জমির দলিল বুঝিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আসছে ২২ মার্চ (বুধবার) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে পলাশ উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আর এতে করেই অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীনরা পেতে যাচ্ছেন তাদের স্বপ্নের ঠিকনা। সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবন-মানের এই পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছে পলাশ উপজেলায়।

ইতিপূর্বে বঙ্গকন্যার দেওয়া উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের মাঝেরচর, বরাব এবং চরসিন্দুর ইউনিয়নের কাউয়াদী আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সময়ের সাথে এখন বদলেছে ছিন্নমূল মানুষের যাপিত জীবনের। পল্লীকবির কবিতার আসমানীরা এখন ভেন্না পাতার ছাউনী থেকে বসবাস করছে রঙ্গিন টিন আর পাকা দেয়ালের আধাপাকা বাড়িতে।সেই বাড়িতেই করছে শাক-সবজির আবাদ। কেউবা করছে হাঁস-মুরগি, ছাগল ও গরু লালন-পালন। সন্তানদের পাঠাচ্ছে স্কুলে। বসতির দুশ্চিন্তা ছেড়ে নিশ্চিন্ত মনে কাজ করে এগিয়ে নিচ্ছে সংসার। সংসারে এসেছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। বসবাসের জন্য সরকারের দেওয়া এই সুবিধাটি পেয়ে খুশি আশ্রয়হীন মানুষগুলো।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা গঠন করেছে সমবায় সমিতি, নিয়মিত নিচ্ছে উপজেলা থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, অনেকের একাডেমিক শিক্ষা না থাকলেও নানা প্রশিক্ষণে তারা হয়ে উঠছে স্বশিক্ষিত। উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকিতে ক্রমেই সময়ের সাথে সাথে উন্নয়নের নানা দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।

এই উপজেলায় আর মাত্র ৯৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর করলেই ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত হবে। সেই ৯৫ টি পরিবারের জন্যও ইতিমধ্যে রঙ্গিন টিন আর পাকা দেয়ালের আধাপাকা বাড়িও প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন শুধু অপেক্ষা হস্তান্তরের। সেই মহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে ৯৫টি পরিবারসহ পুরো পলাশবাসী।

জিনারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর কামরুল ইসলাম গাজী বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উপজেলার হতদরিদ্র যাদের বসবাসের কোনো ঠিকানা ছিলো না, তাদের স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। এটা সত্যিই বিষ্ময়কর। ওই মানুষগুলো তাদের ভাগ্যের চাকা নতুন ভাবে ঘুরাতে শুরু করেছে।

ঘোড়াশাল পৌর মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মুজাহিদ হোসেন তুষার বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে খাদ্য, শিক্ষা ও বাসস্থান অন্যতম। যা বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাত ধরে পূর্ণতা পেয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির সুফল পেতে শুরু করেছে উপজেলার ভূমি ও গৃহহীন মানুষ গুলো।

পলাশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সৈয়দ জাবেদ হোসেন বলেন, হতদরিদ্র ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় মানুষ গুলোকে বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহারের ছোঁয়ায় পলাশ উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত হতে যাচ্ছে। আর ওইসব আশ্রয়হীন মানুষ গুলো পেয়েছে তাদের স্বপ্নের ঠিকনা। যা পৃথিবীর বুকে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন হতে যাচ্ছে।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল আলম বলেন, নতুন কোনো চাহিদা না থাকায় আমরা টাস্কফোর্স কমিটি এবং যৌথ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক পলাশ উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করার প্রস্তাব প্রস্তাব প্রেরণ করেছি। পরবর্তীতে প্রাকৃতিক কোনো কারণ বা অন্য যে-কোনো উপায়ে কেউ নতুনভাবে ভূমিহীন ও গৃহহীন হলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, ৩ দফায় সব মিলেয়ে ৯৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ভূমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছিল। চতুর্থ দফায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জমি ক্রয় করে আরও ৯৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করতে যাচ্ছেন। যা আসছে ২২ মার্চ (বৃধবার) সকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই শতাংশ করে জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তরের মাধ্যমে এই উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করবেন। যা সত্যিই আমাদের জন্য খুবই আনন্দের।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উপযুক্ত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করে ঘর দেয়া হয়েছে।

নরসিংদী -২ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলিপ আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের ছোট তারগাওয়ে নব নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি জানান,বাংলাদেশকে এক সময় একটা তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ, ক্ষুদার দেশ ও বন্যার দেশ বলা হতো। সেই দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে আজ প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন ও গৃহহীন ঘোষনা করতে যাচ্ছে।

এটা আমাদের জন্য একটা গর্বের বিষয়।আমি সংসদ সদস্য হিসেবে নয়,একজন সাধারন মানুষ হিসেবে বলতে চাই,আমরা অতান্ত গর্বিত,অনন্ত আনন্দিত, আমাদের যে উপলব্ধি, যে আনন্দ, সে আনন্দ সকল আনন্দকে ছাপিয়ে আজকে আমরা উপভোগ করছি।

আরো খবর..
© নরসিংদীর কন্ঠস্বর
Developed By Bongshai IT