
নরসিংদী প্রতিনিধি: দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই নরসিংদীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আমূল পরিবর্তন এনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) নরসিংদী পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে তার প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয় এক আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনার। পুরো অনুষ্ঠানে ছিল মানবিকতা, স্মৃতি, ভালোবাসা ও প্রেরণার সুর।
দায়িত্ব গ্রহণের পরেই নেমে পড়েছিলেন মাঠে:
নরসিংদীতে যোগদানের পরপরই তিনি মাঠ পর্যায়ে সরাসরি তদারকি শুরু করেন।
— থানা ব্যবস্থাপনায় কঠোর স্বচ্ছতা
— নগর ও গ্রামাঞ্চলে নজরদারি বৃদ্ধি
— টহল জোরদার
— বিট পুলিশিং সক্রিয়করণ
— দ্রুত অপরাধী গ্রেফতার
— চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উন্মোচন
তার নেতৃত্বে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জেলার অপরাধচক্রের নানা নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ে।
নাগরিকদের অভিযোগ, হয়রানি ও সেবার মান নিয়ে নিয়মিত শুনানি করেন তিনি। অনেক সময় রাতে নিজেই হঠাৎ থানায় গিয়ে দায়িত্বশীলতা যাচাই করেন—যা সাধারণ মানুষের আস্থাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি :
একজন কলেজ শিক্ষক বলেন—
“দুই মাসে এমন পরিবর্তন জীবনে দেখিনি। শহর ও গ্রাম—সব জায়গায় অপরাধীরা মুখ লুকিয়েছে।”
একজন গৃহবধূ জানান—
“এখন সন্ধ্যায় বাজারে যেতে ভয় লাগে না। পুলিশ সুপারের কড়া নজরদারি আমাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে।”
উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থামিয়ে এনেছেন শান্তি
গত কয়েক সপ্তাহে নরসিংদীর কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ সুপার ব্যক্তিগত উপস্থিতির মাধ্যমে তা শান্ত করেন।
তার ঠাণ্ডা মাথার সিদ্ধান্ত, মানবিক আচরণ ও দ্রুত সমন্বয় সকল মহলে প্রশংসিত হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক বৈঠক করে তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন—
জনগণের নিরাপত্তাই পুলিশের প্রথম দায়িত্ব।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশ
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের সকল ইউনিটের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সদস্যরা নিজেদের সমস্যা, চাহিদা ও সীমাবদ্ধতার কথা জানালে তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং কিছু বিষয়ে সেখানেই তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, “পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইন প্রয়োগ নয়—মানুষের আস্থা অর্জন করা। সততা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা আমাদের মূল শক্তি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যে যেখানে কাজ করবেন সেখানে সৎ, নিষ্ঠাবান ও মানবিক থাকবেন। সুনাম কখনো নষ্ট হয় না, বরং যোগ হয়।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই বলেন, “স্যার থাকলে নরসিংদী আরও এগিয়ে যেত। দু’মাসেই তিনি যে পরিবর্তন এনেছেন, তা আমাদের কাছে অনন্য।”
নিজের কর্মজীবনের অন্যতম স্মরণীয় সময়—পুলিশ সুপার
বিদায়ী পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন—
“নরসিংদীর মানুষ সরল, আন্তরিক ও সহনশীল। এখানে কাজ করা ছিল আমার জন্য চ্যালেঞ্জসুন্দর অভিজ্ঞতা।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন—
“জনগণের ভালোবাসা, কর্মকর্তাদের সহযোগিতা এবং সবার আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। নরসিংদীর স্মৃতি আমি সারাজীবন মনে রাখব।”
জেলায় তার রেখে যাওয়া অর্জন : অপরাধ দমনে দ্রুত সাফল্য, সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতার,
রাতের নগরে টহল বৃদ্ধি, নারী ও শিশুবান্ধব পুলিশিং,
গ্রামাঞ্চলে বিট পুলিশিং শক্তিশালীকরণ, থানা পর্যায়ে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা, জনগণের অভিযোগ গ্রহণে সহজীকরণসহ সব মিলিয়ে দুই মাসেই নরসিংদীতে শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
জেলা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—অল্প সময়ে বড় পরিবর্তন :
নরসিংদীর ব্যবসায়ী মহল, শিক্ষক, যুবসমাজ, নারী–পুরুষ সবার মুখে একটাই কথা,“এই দুই মাস নরসিংদীর নিরাপত্তা ইতিহাসে জায়গা করে নেবে।” তার বিদায়ে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কেউ কেউ বলেন, “যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন অপরাধমুক্ত নরসিংদীর, তা আমরা ধরে রাখব।”