
নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদী জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমের নেতৃত্বে গত এক সপ্তাহে ২০০-এর বেশি অপরাধী গ্রেফতার এবং একাধিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। এই অভিযানে মাদক, ছিনতাই, চুরি ও হত্যাকাণ্ডের মতো বড় বড় অপরাধের আসামীরা আইনের আওতায় এসেছে, যা পুরো জেলা জুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
গত এক সপ্তাহে, নরসিংদী জেলা পুলিশের চলমান অভিযানে ২০০-এর বেশি অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া আসামীদের মধ্যে রয়েছেন মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, ডাকাত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীরা। এ ধরনের সফল অভিযান জেলা পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
১৫ সেপ্টেম্বর নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাধীন শিবপুর গ্রামে ঘটে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ঘটনা ঘটে। ৬৫ বছর বয়সী মুদি দোকানদার মানিক মিয়া হত্যার ঘটনার তদন্তে নেমে, পুলিশ একটি বিশেষ টিম গঠন করে। এর ফলস্বরূপ, ২১ সেপ্টেম্বর দু’জন হত্যাকারী—রমিজ উদ্দিন (২৬) ও সুজন মিয়া (২৭)—কে গ্রেফতার করা হয়। রমিজ আদালতে তার অপরাধ স্বীকার করেছেন, যা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শিবপুর মডেল থানার পুলিশ ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-সিলেট হাইওয়েতে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা ৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেলসহ অপরাধে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিন, ১১ সেপ্টেম্বর বেলাব থানার পুলিশ একটি সফল অভিযানে অটোরিক্সা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে নরসিংদী মডেল থানার উত্তর বাগহাটা এলাকায় একটি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দুই চোরকে গ্রেফতার করে এবং তাদের কাছ থেকে নগদ ৬০,০০০ টাকা, দুটি নাকফুল, অন্যান্য চোরাই মালামাল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। মাদক বিরোধী অভিযানে নরসিংদী জেলা পুলিশ ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
চলতি মাসে ৮৬ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে ৩৭.৫ কেজি গাজা, ১২০ লিটার চোলাই মদ ও ১০৩৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। ৩০ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে মাধবদী থানার শ্যামতলী এলাকায় ঘটে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে । মো. আশিক মিয়া তার স্ত্রী হালিমা (২৭)-কে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেয়। পুলিশ দীর্ঘ তদন্তের পর কুড়িগ্রাম সদর থানা এলাকা থেকে ঘাতক স্বামীকে গ্রেফতার করে এবং তিনি তার অপরাধ স্বীকার করেছেন।
নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, ১ সপ্তাহে ২০০ উপর অপরাধী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার সকল ইউনিটের ইনচার্জরা মাঠে থেকে কঠোর অভিযান পরিচালনা করছেন। পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিরাপদ নরসিংদী গড়তে পুলিশ সদা প্রস্তুত। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, যে কেউ যদি অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। নরসিংদী জেলা পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা সতর্ক এবং প্রস্তুত। এভাবে, নরসিংদী জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।