
আলমগীর পাঠান, নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদীর বেলাবতে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। রবিবার (১৭ আগস্ট) বিকালে বেলাব প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তামিম মিয়ার বাবা নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য মো: জুয়েল মিয়া লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১ মার্চ ২০২৫ তারিখে তার ছেলে মো: তামিম মিয়া (১৩) ভাতিজা শাওন ও আপনকে নিয়ে নারায়নপুর বাজারে কবুতর বিক্রি করতে গেলে স্থানীয় ১। বিল্লাল মিয়া (৪০), পিতা: ফিরোজ মিয়া, ২। মোজাহিদ (২০), পিতা: বিল্লাল মিয়া, ৩। ইউসিন মিয়া (২২) পিতা: কালাম মিয়া সর্বসাং কাঙ্গালিয়া, ৪। সজিব আহমেদ দুলাল (৩৮), পিতা: ফিরোজ মিয়া, সাং মরিচা কান্দি সর্ব থানা বেলাব জেলা নরসিংদী সহ আরও অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জন অভিযুক্ত ব্যক্তি আমার ছেলে মো: তামিম মিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পর শাওন ও আপন নামে আমার দুই ভাতিজা নারায়নপুর বাজার থেকে আমাকে ফোন করে অপহরণের বিষয়টি জানায়।
অল্প সময়ের মধ্যেই আমার মোবাইলে বিল্লাল মিয়ার একটি ফোন আসে। প্রথমে তামিম কাঁদতে কাঁদতে মুক্তিপণ বাবদ ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে, পরে বিল্লাল মিয়া ফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, “এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখ টাকা না দিলে তোমার ছেলেকে মেরে ফেলব।”
পরিস্থিতি জানাজানি হলে বেলাব থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় কাঙ্গালিয়ায় বিল্লালের বাড়ি থেকে তামিমকে উদ্ধার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে বেলাব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০০) এর ৭/৮/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-৩/৩/২৫)।
সংবাদ সম্মেলনে জুয়েল মিয়া অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামি বিল্লাল মিয়া স্থানীয় নারায়ণপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি হওয়ায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না। দীর্ঘ ৬ মাসেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা কামনা করে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বেলাব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, বেলাব থানা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই অপহৃত তামিম মিয়াকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্কান্তর করে। আমরা আসামী ধরার চেষ্টা করছি। খুব দ্রুত উক্ত মামলার সকল আসামীদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।