
নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীর শিলমান্দী ইউনিয়নের বাগহাটা টেকপাড়া গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী দুলালের বাড়িতে এক কিশোরকে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত কিশোর সাজিদ হোসেন (২২) বাগহাটা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। স্বজনদের অভিযোগ, দুলাল ও তার সহযোগীরা সাজিদকে বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ খবর পেয়ে সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে ঘটনাস্থলে শেখেরচর ফাঁড়ির ও সদর থানা পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।
জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সাজিদের মা মুসলেমা বেগম খবর পেয়ে দুলালের বাড়িতে ছুটে গেলে, দুলাল ও তার বাড়ির সদস্যরা বাড়ির গেইট তালা মেরে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে দেখেন, ঘরের ভিতরে সাজিদের মরদেহ পড়ে আছে। এ ঘটনায় গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও জোবায়েরসহ একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, টেকপাড়া গ্রামের আতাউরের ছেলে মাদককারবারি ও একাধিক মামলার আসামি দুলাল এখন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অনুসারী। তার দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। সাজিদকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ছিনিয়ে মাদক ব্যবসায় সহযোগী বানিয়েছে দুলাল। ধারণা করা হচ্ছে তাদের ব্যবসার রাস্তাঘাট চিনে ফেলায়, এখন তারাই তাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। এর কঠিন বিচার চায় স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহতের মা মুসলেমা বেগম বলেন, আমার একমাত্র ছেলে সাজিদ। তাকে পাঁচদিন ধরে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। তাকে বাঁচাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা দিতেও বলা হয়েছিল। আমাদের কাছে টাকা না থাকায় দুলাল আমাদের বাড়ির দলিল নিতে চেয়েছিল। আমরা গতকাল তার বাড়িতে এসেছিলাম, কিন্তু ছেলেকে দেখতে দেয়নি তারা। শেষ পর্যন্ত আমার ছেলেটিকে তারা এমন নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের কঠিন বিচার দাবি করেন তিনি।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া যুবকের বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সেই সাথে যাদের বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে তারাও এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তবে কি কারণে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে তদন্ত সহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।