নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীর মনোহরদীতে পূর্ববিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের বাঘবের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাঘবের গ্রামের বিল্লাল খান (৪০) মনোহরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে একই গ্রামের মামুন খান দিপু, মাসুদ খান, শাহরুখ, রহিম, অনিক, লিটন মিয়া, রাকিব, স্বাধীন খান ও আতিকুলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঘবের নূরিয়া মাদ্রাসার সামনে বিল্লাল খানের বোন তাছলিমাকে নিয়ে অভিযুক্ত রহিম বাজে মন্তব্য করেন। এ সময় বিল্লালের ছোট ভাই মিজান প্রতিবাদ করলে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো দা, চাপাটি, রামদা, চায়নিজ কুড়াল, লোহার শাবল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিল্লালদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় বিল্লালের মা আছিয়া, স্ত্রী নিপা ও ভাইয়ের স্ত্রী নাহিদাকে মারধর করা হয়। এছাড়া মিজানকে ঘর থেকে বের করে মারধর করা হয়। এসময় চায়নিজ কুড়াল দিয়ে মিজানের মাথায় কোপ দেওয়া হলে তিনি সরে যাওয়ায় কপালের বাম পাশে আঘাত লাগে। পরে তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। মিজানকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রী নাহিদার মুখে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার ওপরের পাটির একটি দাঁত ভেঙে যায় । একইসঙ্গে তার পরনের কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বসতঘরে ঢুকে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি করেন। এ সময় মিজানের ঘরের আলমারির ড্রয়ারে রাখা ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরও খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যান। ঘটনার পর আহত মিজান, তার স্ত্রী নাহিদা, বিল্লালের স্ত্রী নিপা ও বোন তাছলিমাকে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মিজান ও নাহিদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মনোহরদী থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান বলেন, এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
প্রধান উপদেষ্টা: মো: আশাদউল্লাহ মনা
সম্পাদক: সাব্বির হোসেন
ঘোড়াশাল,পলাশ,নরসিংদী, বাংলাদেশ।
যোগাযোগ: +৮৮০১৭১৫৪০৮৩৪০
নরসিংদীর কন্ঠস্বর @২০২৬